10/18/2026
অবশেষে ইন্টারপোলের জালে কাতারে ধরা পড়েছেন বাংলাদেশ বিমানবাহিনীকে পঙ্গু করা সাবেক প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল (অব.) শেখ আব্দুল হান্নান।
গত ১৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে কাতারের পুলিশ তাঁকে সে দেশে গ্রেপ্তার করে এবং ইন্টারপোল ই-মেইলের মাধ্যমে বাংলাদেশ দুদককে এই খবর নিশ্চিত করার পর আজ বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে সামনে এসেছে।
এই গ্রেপ্তারের পর তাঁর আমলের দুর্নীতির যে ভয়াবহ খতিয়ান সামনে আসছে, ২০২১ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত তাঁর মেয়াদে যেখানে বিমানবাহিনীর আধুনিকায়নের জন্য মোট সামরিক বাজেট বরাদ্দ ছিল প্রায় ১২,০০০ কোটি টাকার মতো। সেখানে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, এই বাজেটের প্রায় ২৫ শতাংশ, অর্থাৎ ৩,০০০ কোটি টাকাই দুর্নীতির মাধ্যমে হাওয়া করে দিয়েছেন!
এই ৩,০০০ কোটি টাকা কত বড় অঙ্কের লুণ্ঠন, তা আন্তর্জাতিক সামরিক বাজার হিসাব করলেই পরিষ্কার হয়ে যায়: আমেরিকার তৈরি বিশ্বের সবচেয়ে আধুনিক ও হাই-টেক পঞ্চম প্রজন্মের স্টিলথ যুদ্ধবিমান F-35A-এর একেকটির মূল উৎপাদন খরচ প্রায় ৯২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার—বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ১,১৩০ কোটি টাকা।
অর্থাৎ, সাবেক বিমানবাহিনী প্রধান যে টাকা একাই গিলে খেয়েছেন, সেই টাকা দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে প্রায় ৩টি ব্র্যান্ড নিউ F-35 যুদ্ধবিমান সরাসরি কিনে ফেলা যেত!
যে টাকা দিয়ে দেশের আকাশসীমা সুরক্ষিত রাখার জন্য অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান আর প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনার কথা, সেই টাকা এক শ্রেণির শীর্ষ কর্মকর্তার পকেটে চলে যাওয়া এবং বিদেশে পাচার হওয়া দেশের সঙ্গে চরম বেইমানি ছাড়া আর কিছুই নয়। প্রতিবেশীরা যখন উন্নত যুদ্ধবিমান কিনছে, তখন এদের মতো লোকের জন্য গত ২৭ বছরে এ দেশে কোনো আধুনিক যুদ্ধবিমান কিনতে পারেনি।
সরকারের উচিত কাতার থেকে দ্রুত তাঁকে দেশে ফিরিয়ে এনে লুট ও পাচার হওয়া প্রতিটি টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত আনা এবং এমন শাস্তি দিতে হবে, যাতে পরবর্তী সময়ে কোনো কর্মকর্তা এমন দুর্নীতি করার আগে দশবার ভাবেন।
দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় গাফিলতি নিয়ে কোনো আপস চলবে না!
দ্রুত বাংলাদেশে ফেরত দিয়ে পাচারকৃত টাকা ফিরিয়ে এনে ফাঁসি নিশ্চিত করতে হবে ১৮ কোটি জনতার দাবী।