10/09/2024
খাঁচায় বন্দী জীবন!
শুধু পশুপাখি নয় মানুষের জীবন ও খাঁচায় বন্দি হয়। কিছু কিছু সময় কিছু মানুষের অবস্থা ঠিক একটি খাঁচা বন্দি পাখির মতনই হয়ে যায়। না সে তার ইচ্ছামতন কোথাও যেতে পারে না কোন কাজ করতে পারে সেই রকমই একটা গল্প আজকে।
একটি পরিবার যেখানে ডিসিপ্লিন সবচেয়ে আগে এমনকি হয়তো মানুষ মারা গেলেও ডিসিপ্লিন ভাবেই মরতে হবে সেই রকমই একটা পরিবারে ছোট্ট মেয়ে সে সবসময় স্বপ্ন দেখতো। একদিন সেও তার ক্লাসের অন্য বান্ধবীদের মতন সবার সাথে আনন্দ ফুর্তি কাটাবে!
কিন্তু বলে না সব আশা পূর্ণ হয় না ।
ছোট মেয়ে ঠিক যেমন হয় মিনি ও ঠিক সেই রকম ছিল। সবার সঙ্গে দুষ্টু মিষ্টি খুনসুটি অনেক অনেক গল্প অনেক অনেক খেলাধুলা করে দিন কাটাতে চাইতো।
কিন্তু যেহেতু সে একটি আভিজাত্য পরিবারের মেয়ে ছিল যেখানে লোকে কি বলবে এইটার উপরে বেশি গুরুত্ব দেয়া হতো। সেখানেই ছোট্ট মেয়ে মিনুর চাওয়া না চাওয়াতে কিছু যায় আসে না।
বাড়ি কোন অনুষ্ঠানে আত্মীয়দের সাথে বেশি কথা বললে মিনুর মা বকা দেয় এত কেন কথা বলিস চুপ হয়ে থাক লোকে খারাপ বলবে, ভালো মেয়েরা বেশি কথা বলে না।
মিনু বললো-ঠিক আছে মা তাহলে আমি একটু খেলাধুলা করি।
মিনুর মা-সব সময় খেলতে হয় না যা গিয়ে পড়তে বস ভালো মেয়েরা খেলাধুলায় সময় নষ্ট করে না পড়াশোনায় ধ্যান দেয় তবেই তো জীবনে বড় হতে পারবি সকলের নামটা করবে তোর। জানিস তো আমাদের বাড়ির কত নাম্বার সেটা তোকে ধরে রাখতে হবে তো, এইভাবে ফালতু কাজে তে সময় না দিয়ে মন দিয়ে পড়াশোনা কর।
মিনু নিজের বুকে এক রাজ কষ্ট চেপে ঘরের দিকে চলে গেল ( কেন সে কারো সাথে কথা বলতে পারবে না কেন তার মা তাকে পছন্দ করেনা সে কি তাদের মেয়েই না যদি সে তাদের মেয়ে হতো তাহলে সে কি তাকে এরকম কষ্ট দিত নাক?) আমি না হয় একটু কথা বলতে ভালোই বাসি, আমি না হয় অত বুঝি না কোথায় কোন কথা বলতে হয়। তো কি করব সবাই যদি আমায় কিছু জিজ্ঞাসা করে আমি কি বলবো না সেই জন্য আমাকে মা সবার থেকে দূরে রাখে যদি আমি কোন কথা বাড়ির লোককে জানিয়ে দিয়। আমার সব বন্ধুরা এদিকে ওদিকে ঘুরতে যাই কত খেলাধুলা করে কই তাদের বাবা-মা তো তাদেরকে বকে না তাহলে আমার সঙ্গে কেন এরকম হয় আমার কিচ্ছু ভালো লাগছে না। মাঝে মাঝে মনে হয় আমি যেন এক বন্দি পাচ্ছি কবে যে খাঁচা ভাঙবে কবে যে আমি উড়ে যেতে পারবো নীল আকাশে নিজের মতন স্বাস নিতে পারব মন ভরে, এই ভাবনাতে আরো চার পাঁচটি বছর কাটিয়ে দিল মিনু।
কিন্তু কই খাঁচা ভাঙ্গা তো দূরের কথা যেন আরো দু-তিনটে খাচার ভিতর তাকে রাখা শুরু হলো এটা করা যাবে না ওদিকে যাওয়া যাবে না সেদিকে যাওয়া যাবে না ওখানে দাঁড়ানো যাবে না এটা খাওয়া যাবে না এটা খেতে হবে। যেন একটি জেলখানার কয়েদি, বড় হওয়ার সাথে সাথে নিয়ম কানুন অনেক বাড়তে শুরু করল।
ওই মানুষটি খারাপ ওই মানুষের সাথে একদম মিশবে না ভালো মানুষদের সাথে মেসো যারা ভালো পড়াশোনা করে তাদের সাথে মেশো। তবে তুমি ভালো রেজাল্ট করতে পারবে। একজন ভালো মানুষ হয়ে উঠবে যারা লাস্ট বেঞ্চে বসে তাদের সাথে মিশলে তুমি তাদের মতনই হবে ওই জন্যই তো এত খারাপ রেজাল্ট করো। বোঝো না তোমার জন্য আমাদের নাক কাটা যাচ্ছে। তোমার বোনেদের দেখো তোমার দাদা দের দেখো। তারা কত সুন্দর রেজাল্ট করেছে তোমার জন্য আমার নাক কাটা যাচ্ছে। মিনুর বাবা রাগে তাকে বকুনি দিতে শুরু করে।
মিনুর আগে কষ্টে একা বসে কাঁদতে শুরু করলো তখন তার সঙ্গে একমাত্র কিছু গাছপালা আর নীল আকাশ আর যেন কেউ তার কথা বুঝতেই চায় না সে মনে মনে শুধু ভাবতে থাকে কবে আমি ওই আকাশে উড়ে যেতে পারবো। কেন আমি পাখিদের মতন কোন চিন্তা ছাড়া ভাবনা ছাড়া কোন কাজ করতে পারিনা কবে ভাঙবে খাঁচা? কবে আমার বাবা-মা আমাকে বুঝবে আমি তো চাই না এত এত বই নিয়ে পড়াশোনা করতে আমি চাই খেলাধুলা আর সকলের সাথে মিশতে কিন্তু আমি কেন পারব না। আমিও মানুষ কেউ কি এটা বোঝেনা আমি কি পাখি নাকি যে সব সময় তাদের কথা মত খাঁচার মধ্যে বসে থাকবো আমার ভালো লাগে না এই খাঁচার জীবন আমি মুক্তি চাই!