12/06/2026
দুনিয়ার মজদুর, এক হও!
বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী)
কেন্দ্রীয় নির্বাহী ফোরাম
২২/১ তোপখানা রোড (৬ষ্ঠ তলা) ঢাকা-১০০০
ফোন: ০২-২২৩৩৫৬৩৭৩, ০১৭১১৪৪০২৬৫
প্রকাশের জন্য সংবাদ তারিখ: ১২ জুন ২০২৬
প্রস্তাবিত বাজেটকে দরিদ্রবান্ধব বলে যে ঢালাও প্রচার চলছে- বাস্তবে তা নয়
-বাসদ (মার্কসবাদী)
বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী)-এর সমন্বয়ক কমরেড মাসুদ রানা বাজেটের উপর এক তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, “অর্থমন্ত্রী যে বাজেট প্রস্তাব করেছেন, সেটি খুবই উচ্চাকাঙ্ক্ষার। মোট ৯ লক্ষ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেটের মধ্যে প্রায় ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা অর্থাৎ ব্যয়ের প্রায় ৭৫ শতাংশ রাজস্ব আয় থেকে সংগ্রহ করার লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ কর আদায়ের জন্য কর্পোরেট করহার বাড়ানো হয়নি, করের আওতা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এই নীতির ক্ষেত্রে আমরা বরাবরই দেখে এসেছি যে, প্রত্যক্ষ করের আওতা বাড়ে কম, পরোক্ষ কর বাড়ে বেশি। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হন সাধারণ মানুষ। এবারও কর্পোরেট কর বাড়বে না। বরং সরকার কর্পোরেট ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করেছে যে, করের আওতা আরও বাড়িয়ে ধাপে ধাপে কর্পোরেট কর কমানো হবে।
বাজেটে করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়ানো হয়েছে, কিন্তু সেটা খুবই নগণ্য, মাত্র ২৫ হাজার টাকা। আবার বার্ষিক ৩ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকার পরবর্তী ৩ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয়ে ১০ শতাংশ কর দিতে হবে। হিসাব করে দেখা যায় এতে উচ্চ-মধ্যবিত্তরা উপকৃত হলেও মধ্যবিত্ত, নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষের কর বাড়বে।
ইউনেস্কোর সুপারিশ অনুযায়ী একটি দেশের জিডিপির ৪ থেকে ৬ শতাংশ শিক্ষাখাতে বরাদ্দ দেয়া উচিত। স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশগুলোতে এই বরাদ্দ জিডিপির ৫ শতাংশ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ অনুযায়ী একটি দেশের জিডিপির ৪ থেকে ৫ শতাংশ স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ দেয়া উচিত। প্রস্তাবিত বাজেটে শিক্ষাখাতে জিডিপির মাত্র ২ শতাংশ বরাদ্দ করা হয়েছে, আর স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ করা হয়েছে জিডিপির ১.০১ শতাংশ। বারবার দাবি তোলার পরও বরাবরের মতোই এবারের বাজেটেও শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দের ক্ষেত্রে একই ঘটনা ঘটলো।
ঋণ পরিশোধ এ বাজেটের সর্বোচ্চ ব্যয়ের খাত, আবার নতুন করে ১ লক্ষ ১৬ হাজার কোটি টাকা বৈদেশিক ঋণ নেয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। বাকি ঘাটতি পূরণের জন্য আভ্যন্তরীণ উৎস থেকে সরকার ১ লক্ষ ২৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করবে। এতকিছুর পরও মূল্যস্ফীতি ৭.৫% এর নিচে রাখার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা প্রায় অসম্ভব!
বাজেটে সামাজিক সুরক্ষাখাতে বরাদ্দ বাড়ানো হলেও, যে পরিমাণ হাঁকডাক দেয়া হচ্ছে, সেরকম কিছুই ঘটেনি। যা দেয়া হয়েছে সেটা ন্যূনতম পর্যাপ্তও নয়। যেখানে বাংলাদেশে দরিদ্র ও অতি দরিদ্র পরিবারের সংখ্যাই এক কোটির উপরে, সেখানে ফ্যামিলি কার্ডধারী ৪১ লক্ষ পরিবারকে মাসিক আড়াই হাজার টাকা ও কৃষক কার্ডধারী কৃষককে (সংখ্যা উল্লেখ করা হয় নাই) বছরে আড়াই হাজার টাকা দিয়ে সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা যাবে না।
ফলে এই বাজেটকে দরিদ্রবান্ধব বলে যেভাবে ব্যাপক প্রচার চালানো হচ্ছে, বাস্তবে তা নয়। এটি বরাবরের মতোই ধনীবান্ধব বাজেট, বড় ব্যবসায়ীরা একারণেই এটির ভূয়সী প্রশংসা করছেন।”
বার্তা প্রেরক
সীমা দত্ত
০১৭১২৯৮১৪২২