08/06/2026
প্রসাব করাকে কেন্দ্র করে পাইকগাছায় মারধরে নিহত ১, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
গণমিছিল রিপোর্ট -
খুলনার পাইকগাছায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘটিত মারধরের ঘটনায় হাসান (৪০) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, পুলিশের উপস্থিতিতেই তাকে বেঁধে বেধড়ক মারধর করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার চাঁদখালী গরুর হাটসংলগ্ন চাঁদখালী গ্রামের মালেক সরদারের ছেলে হাসানের একটি গোলপাতার ঘর রয়েছে। রোববার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে চাঁদখালী গরুর হাট চলাকালে কালিদাসপুর গ্রামের খালেক গাজীর ছেলে কুদ্দুস ওই ঘরের পাশে প্রসাব করতে বসেন। এ সময় হাসান বাধা দিলে দু’জনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।
অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার একপর্যায়ে কুদ্দুস মোবাইল ফোনে কয়েকজনকে ডেকে আনেন। পরে নাজমুল হাসান মিন্টু, আজহারুল, জহিরুল, জাহাঙ্গীর, মনিরুল, কবির, খায়রুল খোকন হাজীসহ আরও কয়েকজন সংঘবদ্ধ হয়ে হাসানের ওপর হামলা চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, হামলাকারীরা তাকে দড়ি দিয়ে বেঁধে দীর্ঘ সময় ধরে মারধর করে।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, হামলার খবর পেয়ে পাইকগাছা থানার এসআই মঞ্জুর সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলেও হামলা বন্ধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বরং তাদের সামনেই হাসানের ওপর মারধর চলতে থাকে।
গুরুতর আহত অবস্থায় হাসানকে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন সম্পন্ন করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
সোমবার সকালে নিহতের স্ত্রী তাসলিমা অভিযোগ করে বলেন, “আমার স্বামী শুধু ঘরের পাশে প্রসাব করতে নিষেধ করেছিলেন। এ কারণেই লোকজন ডেকে এনে তাকে দড়ি দিয়ে বেঁধে মারধর করা হয়। পুলিশের উপস্থিতিতেই আমার স্বামীকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে এসআই মঞ্জুর বলেন, “ঘটনাটি নিয়ে মন্তব্য করা আমার জন্য বিধিসম্মত নয়। এ বিষয়ে ওসির সঙ্গে কথা বলতে হবে।”
পাইকগাছা থানা সূত্রে জানা গেছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছিল।