The Gono Misil

Website Contact the business

The Gono Misil গণমিছিল অনলাইন সংবাদপত্র, পাইকগাছা, খুলনা।

পাইকগাছা প্রেসক্লাবের উন্নয়নে ৩ লাখ টাকা বরাদ্দ, জেলা ও উপজেলা বিএনপি নেতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশগণমিছিল রিপোর্ট -খুলন...
10/10/2026

পাইকগাছা প্রেসক্লাবের উন্নয়নে ৩ লাখ টাকা বরাদ্দ, জেলা ও উপজেলা বিএনপি নেতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ

গণমিছিল রিপোর্ট -
খুলনার পাইকগাছা প্রেসক্লাবের অবকাঠামোগত ও সার্বিক উন্নয়নে খুলনা জেলা পরিষদ থেকে ৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়ায় জেলা ও উপজেলা বিএনপির নেতাদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানিয়েছেন প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় সাংবাদিকরা।

শনিবার (১০ অক্টোবর) পাইকগাছা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এক জরুরি সভায় এ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রেসক্লাবের সভাপতি অ্যাডভোকেট এফ এম এ রাজ্জাক। সভা সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক এম মোসলেম উদ্দীন আহমেদ।

সভায় বক্তারা বলেন, একটি কার্যকর ও দায়িত্বশীল প্রেসক্লাব স্থানীয় সাংবাদিকদের পেশাগত মানোন্নয়ন, বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় তুলে ধরার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রেসক্লাবের অবকাঠামোগত উন্নয়ন সাংবাদিকদের পেশাগত কর্মকাণ্ডকে আরও গতিশীল ও সুশৃঙ্খল করতে সহায়ক হবে। এ ধরনের সহযোগিতা স্থানীয় সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের পরিবেশ উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে তাঁরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সভায় পাইকগাছা প্রেসক্লাবের উন্নয়নে ৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়ায় খুলনা জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পীকে আন্তরিক অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানানো হয়।

একই সঙ্গে বরাদ্দ প্রাপ্তি ও সার্বিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখায় পাইকগাছা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ডা. আব্দুল মজিদ এবং উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান এস এম এনামুল হকের প্রতিও বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন সভায় উপস্থিত সাংবাদিকরা।

সভাপতির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট এফ এম এ রাজ্জাক প্রেসক্লাবের উন্নয়নে সহযোগিতার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের উপযোগী পরিবেশ গড়ে তুলতে সম্মিলিত উদ্যোগ ও পারস্পরিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রেসক্লাবের সার্বিক উন্নয়ন, সাংবাদিকদের ঐক্য সুদৃঢ় করা এবং বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার চর্চা অব্যাহত রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

সভায় আরও বক্তব্য দেন এস এম বাবুল আক্তার (দৈনিক খুলনাঞ্চল), এন ইসলাম সাগর (দৈনিক প্রভাত ফেরী), আলাউদ্দীন রাজা (দৈনিক প্রজন্ম একাত্তর ও দেশের কণ্ঠ), স্নেহেন্দু বিকাশ (দৈনিক বাংলার ভোর), এম আর মন্টু (দৈনিক পূর্বাঞ্চল), বি সরকার (দৈনিক খবরপত্র), নজরুল ইসলাম (দৈনিক সুপ্রভাত সাতক্ষীরা), প্রমথ রঞ্জন সানা (দৈনিক সাতনদী), আবুল হাসেম (দৈনিক দক্ষিণাঞ্চল প্রতিদিন), পূর্ণ চন্দ্র মণ্ডল (দৈনিক জন্মভূমি), এফ এম বদিউজ্জামান (দৈনিক নতুন সকালের বার্তা), আশরাফুল ইসলাম সবুজ (দৈনিক স্বদেশ প্রতিদিন ও দৈনিক ভয়েজ অব টাইগার), শাহরিয়ার কবীর (দৈনিক মানবকণ্ঠ), শাহাজামান বাদশা (দৈনিক সময়ের খবর), খোরশেদ আলম (দৈনিক কল্যাণ), উজ্জ্বল কুমার দাস (দৈনিক বিডি খবর) ও দিনেশ চন্দ্র রায় (অগ্রযাত্রা প্রতিদিন)।

সভায় প্রেসক্লাবের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, সাংবাদিকদের পেশাগত পরিবেশ এবং সংগঠনের সার্বিক অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি প্রেসক্লাবের উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নিতে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করা হয়।

পাইকগাছায় পুলিশের বিশেষ অভিযান, আ.লীগ নেতাসহ গ্রেপ্তার ১৮গণমিছিল রিপোর্ট -খুলনার পাইকগাছায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে কার্যক্...
10/10/2026

পাইকগাছায় পুলিশের বিশেষ অভিযান, আ.লীগ নেতাসহ গ্রেপ্তার ১৮

গণমিছিল রিপোর্ট -

খুলনার পাইকগাছায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের এক স্থানীয় নেতাসহ ২৪ ঘণ্টায় ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার থেকে শনিবার পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে রাজনৈতিক মামলার আসামি, জুয়া ও মাদকসংক্রান্ত অপরাধে অভিযুক্ত এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত ব্যক্তিদের আটক করে পুলিশ।

পাইকগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ আব্দুল আউয়াল কবিরের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে উপজেলার হরিঢালী ইউনিয়নের নগরশ্রীরামপুর এলাকা থেকে মান্নান হাজরা (৫৭) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানায়, তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা এবং ২০২৪ সালে থানায় দায়ের করা ১৬ নম্বর নাশকতা মামলার সন্দেহভাজন আসামি। পরে তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

পাইকগাছা থানার ডিউটি অফিসার উপপরিদর্শক (এসআই) একরামুল ইসলাম জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার হওয়া ১৮ জনের মধ্যে জুয়া আইনে ৬ জন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ৩ জন, গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত ২ জন, নিয়মিত মামলায় ২ জন এবং অন্যান্য অপরাধে ৫ জন রয়েছেন।

ওসি শেখ আব্দুল আউয়াল কবির জানান, জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় মাদক, জুয়া ও অন্যান্য অপরাধ দমনে বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে তিনি স্থানীয় সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন।

এদিকে, পুলিশের এ অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকেরা। একই সঙ্গে অপরাধের সঙ্গে জড়িত মূল হোতাদেরও দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

পাইকগাছা ভূমি অফিসে দালাল-ঘুষের দৌরাত্ম্যের অভিযোগভিপি-খাস জমি ও ডিসিআরের নামে লাখ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ, অফিসের বাইরেও...
03/10/2026

পাইকগাছা ভূমি অফিসে দালাল-ঘুষের দৌরাত্ম্যের অভিযোগ

ভিপি-খাস জমি ও ডিসিআরের নামে লাখ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ, অফিসের বাইরেও ‘ভূমিসেবা’র নামে দালালি

গণমিছিল রিপোর্ট -
খুলনার পাইকগাছা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়কে ঘিরে ঘুষ লেনদেন ও দালালচক্রের দৌরাত্ম্যের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি খাস ও ভিপি জমি বন্দোবস্ত, ইজারা নবায়ন, ডিসিআরসহ বিভিন্ন ভূমিসেবা দেওয়ার কথা বলে অফিসের কিছু কর্মচারী ও তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগ করেছেন একাধিক ভুক্তভোগী।

অভিযোগকারীদের দাবি, টাকা দেওয়ার পরও অনেকের কাজ সম্পন্ন হয়নি। কেউ কেউ টাকা ফেরতও পাননি। বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ করেও প্রত্যাশিত প্রতিকার না পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

ডিসিআরের নামে প্রায় ৩০ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ

সম্প্রতি পাইকগাছা ভূমি অফিসের সার্টিফিকেট সহকারী অমৃত কুমারের বিরুদ্ধে ডিসিআর করে দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে প্রায় ৩০ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, টাকা নেওয়ার পরও অনেকের ডিসিআর দেওয়া হয়নি।

এ নিয়ে ভূমি অফিসের সামনে কয়েকজনের সঙ্গে অমৃত কুমারের বাকবিতণ্ডার ঘটনাও ঘটে। তাকে হেনস্তা করা হয়েছে—এমন অভিযোগও ওঠে।

ভুক্তভোগী আজু মোল্লা বলেন, “অমৃত কুমার আমার কাছ থেকে দেড় লাখ টাকা নিয়েছেন। ওই টাকা ফেরত বা ডিসিআর দিতে অস্বীকার করায় তার সঙ্গে আমার বাকবিতণ্ডা হয়েছে। তবে তাকে লাঞ্ছিত করার বিষয়টি ঠিক নয়।”

অন্যদিকে শামছুজ্জামান, আবুল হোসেন ও জয়ত্রী সাধুসহ কয়েকজনের অভিযোগ, ডিসিআর করে দেওয়ার কথা বলে তাদের কাছ থেকেও বিভিন্ন সময়ে টাকা নেওয়া হয়েছে। তারা অভিযোগগুলোর তদন্ত করে টাকা ফেরত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

ভিপি ও খাস জমি বন্দোবস্তের নামেও অর্থ নেওয়ার অভিযোগ

শুধু ডিসিআর নয়, সরকারি ভিপি ও খাস জমি বন্দোবস্ত করে দেওয়ার নামেও অর্থ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দালালদের মাধ্যমে ভূমিহীনদের কাছে সরকারি জমি বন্দোবস্ত দেওয়ার কথা বলে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়। কেউ কেউ টাকা দেওয়ার পরও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না পাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন।

সম্প্রতি সোলাদানা ইউনিয়নের ভিলেজ পাইকগাছা, পারিশামারি, কাঠামারি, কাঁকড়াবুনিয়া ও দক্ষিণ কাঠামারি মৌজার দীর্ঘদিনের বন্দোবস্ত গ্রহীতাদের জমিতে ‘সরকারি ভিপি সম্পত্তি’ উল্লেখ করে সাইনবোর্ড টাঙানো হয়। এতে প্রায় শতাধিক ভূমিহীন পরিবার উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন।

তাদের দাবি, ১৯৮০ ও ১৯৯০-এর দশকে সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী তারা প্রায় ২০০ একর খাস জমি বন্দোবস্ত পান। অনেকের নামজারি ও রেকর্ড রয়েছে এবং তারা নিয়মিত ভূমি উন্নয়ন করও পরিশোধ করছেন। বিষয়টি যাচাই ও প্রতিকারের দাবিতে ৫৯ জন বন্দোবস্ত গ্রহীতা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করেছেন।

আগেও আদালতে গড়িয়েছিল ঘুষের অভিযোগ

পাইকগাছা ভূমি অফিসে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ নতুন নয়। ২০২৫ সালের ১২ জানুয়ারি প্রতাপকাটী গ্রামের নজরুল ইসলাম শেখ তৎকালীন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইফতেখারুল ইসলাম শামীমসহ ভূমি অফিসের পাঁচজনের বিরুদ্ধে পাইকগাছা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন। মামলাটির নম্বর সিআর ৩৬/২৫।

মামলার আইনজীবী এডভোকেট এফএমএ রাজ্জাক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তার দাবি, কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় অভিযুক্ত কয়েকজন দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থাকায় ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগ বেড়েছে।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতাপকাটী মৌজার ৫৫৪/৭৪-৭৫ নম্বর ভিপি লিজ কেসের ইজারা নবায়নের কথা বলে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে মোট ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা নেওয়া হয়। মামলায় সার্টিফিকেট সহকারী অমত্য বিশ্বাস, সার্ভেয়ার কাওছার আলী, নাজির মো. জিহাদ উল্ল্যাহ এবং কপিলমুনি ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা কামাল হোসেনকেও আসামি করা হয়।

বাদীর অভিযোগ ছিল, টাকা নেওয়ার পরও তাকে ইজারা না দিয়ে প্রতিপক্ষকে ইজারা দেওয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে সে সময় বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদও প্রকাশিত হয়।

সরকারি জমি দখলমুক্ত করার উদ্যোগ

এর আগে সরকারি সম্পত্তি সুরক্ষা ও অবৈধ দখলমুক্ত করতে পাইকগাছার বিভিন্ন এলাকায় খাস ও ভিপি জমি পরিদর্শন করা হয়। পুটিমারী, পানা ও তেতুলতলা এলাকায় জমির সীমানা নির্ধারণ, সাইনবোর্ড স্থাপন এবং অবৈধ দখলদারদের তালিকা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।

বর্তমানে পাইকগাছার সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মো. ফজলে রাব্বী। ডিসিআর নিয়ে বিরোধের বিষয়ে তিনি বলেন, “যারা অমৃতকে ঘুষ দিয়েছেন, তাদের দায়িত্বে বিষয়টি নিষ্পত্তি করবেন।”

দালালমুক্ত ভূমিসেবার দাবি

স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, ভূমি অফিসের সামনে ও আশপাশের কিছু কম্পিউটার দোকান এবং কথিত ভূমিসেবা কেন্দ্রকে ঘিরে দালালচক্র সক্রিয় রয়েছে। সাধারণ মানুষ ভূমিসেবার সরকারি ফি ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা না থাকায় এসব ব্যক্তির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন। এর সুযোগে সরকারি ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের।

স্থানীয়দের দাবি, ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি অফিসের বাইরে সক্রিয় দালাল ও কম্পিউটার দোকানগুলোর কার্যক্রমও তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ভিপি ও খাস জমি বন্দোবস্ত, ডিসিআর, ইজারা নবায়নসহ বিভিন্ন ভূমিসেবায় অর্থ লেনদেনের অভিযোগ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন তারা।

তাদের আরও দাবি, ভূমিসেবার নির্ধারিত ফি প্রকাশ্যে টাঙানো, দালালদের প্রভাব বন্ধ করা এবং সাধারণ মানুষকে সরাসরি সরকারি সেবা পাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করা হোক।

অবাধে পারশে পোনা নিধন, সুন্দরবনের জীব-বৈচিত্র্য ব্যাপক ক্ষতির মুখেএফ,এম,এ রাজ্জাক, পাইকগাছা,খুলনা।সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান...
19/09/2026

অবাধে পারশে পোনা নিধন, সুন্দরবনের জীব-বৈচিত্র্য ব্যাপক ক্ষতির মুখে
এফ,এম,এ রাজ্জাক, পাইকগাছা,খুলনা।
সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সুন্দরবনের নদী-খালে চলছে অবাধে পারশে মাছের পোনা নিধন। নিষিদ্ধ জাল দিয়ে এ পোনা ধরতে গিয়ে বিপুল হারে উঠে আসছে অন্যান্য জলজ প্রাণ-সম্পদও। এতে সুন্দরবনের জীব-বৈচিত্র্য ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ার কথা বলছেন গবেষকরা। দক্ষিণের উপকূলীয় অঞ্চলের চিংড়ি ঘেরগুলো সুস্বাদু এই পারশে মাছের পোনার অন্যতম গন্তব্য। পোনা নিধনের নিষেধাজ্ঞার কারণে ঘের মালিকরা তা কেনার বিষয়ে তথ্য দিতে চান না। তাদের সঙ্গে কথা বলে ধারণা করা যায়, চাহিদামত তারা পোনা পাচ্ছেন এবং চিংড়ির পাশাপাশি ঘেরে তা চাষও করছেন। এতে সুন্দরবনের জীব-বৈচিত্র্যে কী আঘাত পড়ছে তার একটি পরিসংখ্যান তুলে ধরেছে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধীন খুলনার পাইকগাছা নোনা পানি গবেষণা কেন্দ্র। তাদের তথ্য বলছে, একটি পারশে পোনা আহরণের বিপরীতে কমপক্ষে ১১৯ চিংড়ি, ৩১২ প্রাণিকণা ও ৩১টি অন্য প্রজাতির মাছের পোনা ধ্বংস হয়। সুন্দরবন নিয়ে কাজ করেন এমন সংগঠক-পরিবেশবাদী, বনজীবী ও জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পারশে মাছের পোনার সংগ্রহের একটি ‘জঙ্গল’ চক্র সারাবছরই সুন্দরবনে সক্রিয় থাকে। এদের সঙ্গে বনের অসৎ নিরাপত্তা কর্মী, বন বিভাগের লোকজনেরও যোগসাজশ থাকার অভিযোগ আছে। এদের মাধ্যমেই এ মাছের পোনা চিংড়ি ঘের পর্যন্ত পৌঁছায়। সুন্দরবন ঘেঁষা মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের বনজীবী সামাদ শেখ বলেন, খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা অঞ্চলের চিংড়ি ঘেরে প্রাকৃতিক উৎস থেকে সংগ্রহ করা পারশে পোনার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। ২০-২৫টি দল সুন্দরবনে এ পোনা শিকার করে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সুন্দরবনের আলোর কোল, দুবলার চর, বঙ্গবন্ধুর চর, বাটলুরচর, নেরালী, কালার মাথা, মজ্জতের গোড়া, মানিকখালী, নীলবাড়ী, নারিকেলবাড়িয়া, টিয়ের চর, আগুন জ্বলা, মজ্জত এলাকার নদী-খাল থেকে বিপুল পরিমাণ পারশে পোনা শিকার করা হচ্ছে। সাধারণত টানা বা বেহুন্দী জাল দিয়ে চিংড়ির পোনা ধরেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এসব জাল মশারির মত প্রায় নিশ্ছিদ্র। একই জাল ব্যবহার করা হয় পারশে মাছের পোনা ধরতে। বাংলাদেশ মৎস্য আইনে মাছের পোনা সংরক্ষণে সোয়া চার ইঞ্চির কম ফাঁস জাল ব্যবহার করা দণ্ডনীয় অপরাধ। বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, সুন্দরবন সুরক্ষা ও উপকূলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি কমিউনিটিভিত্তিক সুরক্ষা বলয় তৈরি করা হচ্ছে। এসব ক্ষেত্রে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হবে। কোনো অনৈতিক কাজে বন বিভাগের কারও জড়িত থাকার প্রমাণ পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বনবিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সুন্দরবনের ছয় হাজার ১৭ বর্গকিলোমিটার বাংলাদেশ অংশে জলভাগের পরিমাণ ১৮৭৪ বর্গকিলোমিটার; যা পুরো সুন্দরবনের আয়তনের ৩১ দশমিক ১৫ শতাংশ। বর্তমানে ১৩টি বড় নদীসহ ৪৫০টির মত খাল রয়েছে সুন্দরবনে। সুন্দরবনের আয়তনের অর্ধেকের বেশি এলাকা এখন অভয়ারণ্য। এসব এলাকায় জেলেদের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ‘পূর্ব’ ও ‘পশ্চিম’ এই দুটি প্রশাসনিক বিভাগে বনের বাংলাদেশ অংশ বিভক্ত। খুলনা ও সাতক্ষীরা অংশ নিয়ে পশ্চিম সুন্দরবন। বাগেরহাট ও খুলনার কিছু অংশ নিয়ে পূর্ব সুন্দরবন। জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হওয়া সুন্দরবনের জলাধার ভেটকি, রূপচাঁদা, দাঁতনে, চিত্রা, পাঙাশ, লইট্যা, ছুরি, মেদ, পারশে, পোয়া, তপসে, লাক্ষা, কই, মাগুর, কাইন, ইলিশসহ ২১০ প্রজাতির সাদা মাছের আবাস। রয়েছে গলদা, বাগদা, চাকা, চালী, চামীসহ ২৪ প্রজাতির চিংড়ি। শিলাসহ ১৪ প্রজাতির কাঁকড়ার প্রজনন হয় এখানে। তবে অতিমাত্রায় মাছ আহরণ, জলবায়ু পরিবর্তন, মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশকের ব্যবহার ও পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেন স্বল্পতার কারণে সামুদ্রিক মাছের মজুদ কমছে বলে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) ও নরওয়ের যৌথ উদ্যোগে ইএএফ-নানসেন সার্ভে-২০২৫ শীর্ষক জরিপে তুলে ধরা হয়েছে। এতে দেখা যায়, ২০১৮ সালের সর্বশেষ জরিপের পর গত সাত বছরে বঙ্গোপসাগরে মাছের মজুদ কমেছে প্রায় ৭৮ শতাংশ। ২০১৮ সালে ‘স্মল পেলাজিক’ মাছের মজুদ ছিল ১ লাখ ৫৮ হাজার ১০০ টন, ২০২৫ সালে তা কমে ৩৩ হাজার ৮১১ টনে নেমেছে। সাগরের পানির উপরিস্থ সার্ডিন, ইলিশ, ছুরি, হার্ড টেইল, ম্যাকারেল, পোয়া, আইলাসহ ৬০ প্রজাতির মাছের প্রাচুর্যও কমে গেছে। পারশে পোনা সংগ্রহ করতে হয় বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সুন্দরবনের ভেতর ট্রলার চলাচল নিষিদ্ধ থাকলেও সাদা মাছ পরিবহনের প্রয়োজনীয়তায় কথা বলে বনবিভাগ থেকে ট্রলারের অনুমতি নেয় ‘জঙ্গল’ ব্যবসায়ী মহাজনরা। এরপর তারা বনের বিভিন্ন নদী-খালে অবাধে পারশে মাছের পোনা শিকার করেন। অভয়ারণ্যের নদীতে পোনা ধরতে প্রতিটি দ্রুতগামী ট্রলারে আট থেকে ১০ জন জেলে আর ঘন দীর্ঘ মশারি জাল থাকে। কোনো অভিযান পরিচালনার আগেই বনবিভাগের ‘দালালরা’ জেলেদের জানিয়ে দেয়। সংকেত পেয়ে তারা বনের মধ্যে পালিয়ে যান। অভিযান শেষ হলে আবার তারা পোনা ধরতে শুরু করেন। বনজীবী সামাদ এর ভাষ্যমতে, একবার জাল টানলে দুই থেকে তিন মণ পারশে পোনা পাওয়া যায়। দুদিন পর পর এসব ট্রলার সাত থেকে আট মণ পোনা নিয়ে শিবসা নদীতে আসে। সেখান থেকে বনবিভাগের নলিয়ান কার্যালয়ের সামনে দিয়েই নিয়ে যাওয়া হয় পাইকগাছা, দাকোপ ও মোংলায় বিভিন্ন মাছের মোকামে। “খুলনা জেলার পাইকগাছা সেতুর নিচে দক্ষিণ পাশে প্রকাশ্যে এ পোনা বেচাকেনা হয়। ঘের মালিকদের কাছে আকার ভেদে প্রতি কেজি পোনা ১৫০০ থেকে ২৫০০ টাকা দরে বিক্রি হয়। সামাদের দাবি, শিবসা নদী দিয়ে পোনা আসার সময় বনবিভাগের স্টেশন ও ক্যাম্পকে ‘ম্যানেজ’ করেন জেলেরা। তবে এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করে নলিয়ান স্টেশন কর্মকর্তা মোবারক হোসেন বলেন, “আমার এলাকায় সার্বক্ষণিক নজরদারি ও টহল জোরদার আছে। পারশে মাছের পোনা ধরা বা অবৈধ অনুপ্রবেশকারী প্রবেশের কোনো সুযোগ নেই। যোগদানের পর এসব ট্রলার একেবারেই বন্ধ করে দিয়েছি।” মৎস্য অধিদপ্তর খুলনা বিভাগের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, খুলনা বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা অঞ্চলে এক লাখ ৮৫ হাজার ২০৪টি চিংড়ি ঘের রয়েছে। এসব ঘেরে মৌসুমভিত্তিক পারশে পোনার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। মৎস্য অধিদপ্তর খুলনা বিভাগের উপ-পরিচালক বিপুল কুমার বসাক বলেন, পারশে মাছ সুন্দরবন উপকূলীয় অঞ্চলের একটি সুস্বাদু মাছ। এ মাছ উচ্চ প্রোটিনসমৃদ্ধ এবং ক্ষতিকারক চর্বি নেই। উপকূলীয় অঞ্চলের চিংড়ি ঘের মালিকরা চিংড়ির সঙ্গে ঘেরে এ মাছেরও চাষ করেন। এ মাছ চাষে ঝুঁকি কম। দামও মেলে ভালো। সাধারণত এর ওজন ১৫০-২০০ গ্রাম হয়। ঘেরে পোনা মজুদ করার সাত-আট মাস পর একেকটা মাছের ওজন হয় ১৫০-২০০ গ্রাম। তবে এর ওজন ৪০-৮০ গ্রাম হলেই বাজারজাত করা যায়। বিপুল বলেন, এখনো এ মাছ চাষে উদ্যোক্তাদের প্রাকৃতিক পোনার উপরই নির্ভর করতে হয়। পারশে মাছ প্রাকৃতিক পরিবেশে ডিসেম্বর-ফেব্রুয়ারি অর্থাৎ শীতকালে প্রজনন করে। এরা সাধারণত অধিক লোনাপানিতে ডিম দেয়। ডিসেম্বরের শেষ দুই সপ্তাহ ও ফেব্রুয়ারির শেষ দুই সপ্তাহে এ মাছ সবচেয়ে বেশি ডিম দেয়। এরা উচ্চ প্রজননকারী। ১৫ মাসের মধ্যে এদের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়। সুন্দরবন সংলগ্ন বঙ্গপোসাগর এবং সুন্দরবনের বিভিন্ন নদী-খালে অবাধে পারশে মাছের পোনা নিধনে বিষয়ে তিনি বলেন, সুন্দরবনে সরাসরি অভিযানের অনুমতি না থাকায় মৎস্য বিভাগ অভিযানে যেতে পারে না। খুলনার পাইকগাছার সোলাদানার চিংড়ি ঘের ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, তার আড়াইশ বিঘা চিংড়ি ঘের রয়েছে। যেখানে তিনি প্রতিবছর চিংড়ির সঙ্গে পারশে মাছের পোনাও ছাড়েন। “সুস্বাদু এই মাছটির সারাদেশেই ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। লাভও ভালো।”তবে এক মৌসুমে তিনি কী পরিমাণ পারশে পোনা সংগ্রহ করেন সেটি জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন তিনি। বলেন, সাধারণত ফড়িয়াদের মাধ্যমে তিনি তা সংগ্রহ করেন। সুন্দরবন উপকূলীয় অঞ্চলে জলবায়ু, দুর্যোগ, সুন্দরবন সুরক্ষা ও শিক্ষা সহায়তা বিষয়ে নিয়ে কাজ করা কয়রা সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি তারিক লিটু বলেন, সুন্দরবন সংলগ্ন জনপদের কিছু প্রভাবশালী ‘জঙ্গল’ ব্যবসায়ী মহাজন বনবিভাগকে ‘ম্যানেজ’ করে পারশে পোনা নিধন করছে। এ পরিস্থিতি উদ্বেগজনক বলে মনে করেন বাংলাদেশ সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের মিডিয়া সমন্বয়ক ওবায়দুল কবির সম্রাট। তিনি বলেন, “সাম্প্রতিক সময়ে বন কর্মকর্তা-রক্ষীদের উৎকোচ বাণিজ্যে নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে সুন্দরবন। বনবিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-প্রহরীদের যোগসাজশে পশ্চিম সুন্দরবনকে কেন্দ্র করে খুলনার কয়রা ও দাকোপ কেন্দ্রিক কয়েকটি ‘জঙ্গল’ ব্যবসায়ী চক্র গড়ে উঠেছে। যেটা কয়রা থেকে নিয়ন্ত্রিত হয়।”
খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ বলেন, জনবল সংকটসহ বেশ কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও সুন্দরবনকেন্দ্রিক সব ধরনের অপরাধ দমনে সচেষ্ট রয়েছেন বন কর্মকর্তা ও প্রহরীরা। প্রায়ই কীটনাশক, কীটনাশক দিয়ে ধরা মাছ, নিষিদ্ধ ঘন জালসহ সুন্দরবনে অবৈধভাবে প্রবেশ করা জেলেদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।

09/09/2026

Address

Khulna

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when The Gono Misil posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to The Gono Misil:

Shortcuts

Share

Category