20/05/2026
⭕⭕কালেক্টেড পোস্ট, কিন্তু সবার পড়া উচিৎ।
স্পেশালি মেয়ে শিশুর অবিভাবকের জন্য এটা গুরুত্বপূর্ণ।
রামিসার ঘটনার খুব ছোট্ট একটা জিনিস শেয়ার করি যেটা মেয়ে সন্তানের অভিভাবকদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ মনে হয় আমার ।
রামিসার ঘটনাটা পড়ার সময় আমি চিন্তা করছিলাম রামিসাকে ফ্ল্যাটে নিয়ে গিয়েছিলো কে ?
ধর্ষক সোহেল রানা ? কিভাবে ? চকলেটের লোভ দেখিয়ে ? অথবা ভিন্ন কিছু হলে সেটা কি!
কিন্তু আজ জবানবন্দিতে প্রকাশ হলো ,
"সোহেল রানা না বরং তার স্ত্রী স্বপ্নাই রামিসাকে ফ্ল্যাটে ডেকে নিয়ে যায় । আদর করে বাসায় ঢুকায়ে তারপর দরজা লক করে দেয় । "
বাচ্চারা সাধারণত অল্পতেই মিশুক হয় । তাদের একটা চিপস, একটা পছন্দের খেলনা , একটা চকলেট দিয়ে বশ করে নেওয়া যায় ।
তারপর এসব যদি দেয় মেয়ে কেউ, তাহলে তো বশ করার তাবিজ আরও বেশি কাজ করে ।
গতকাল যখন ঘটনার বর্ণনা দিয়েছিলাম ,
'ধর্ষকের স্ত্রী ধর্ষণ করতে সহায়তা করেছে ,
রামিসাকে হ*ত্যা করতে সহায়তা করেছে ,
এমনকি রামিসার দেহ থেকে মাথা আলাদা করতেও সে সহযোগিতা করেছে -
তখন অনেকেই আশ্চর্য হয়ে প্রশ্ন করেছে ,
একজন মেয়ে হয়ে কি আসলেই এরকম করা সম্ভব ?
আসলেই তা সম্ভব , তা-ই করা হয়েছে।
কলকাতার মেডিকেল কলেজের মৌমিতার ঘটনার কথা মনে আছে?
ধারণা করা হয়েছিলো , মৌমিতাকে যখন ধর্ষণ করা হচ্ছিলো তখন তার দুই সহকর্মী হাত চেপে ধরেছিল।
সেখানে একজন মেয়ে ছিলো । মৃত মৌমিতার পাশে এমন একটা ক্লিপ পাওয়া গিয়েছিলো যেটা মৌমিতার ছিলো না ।
মৌমিতাকে এত নিষ্ঠুরতম উপায়ে ধর্ষণ করা হয়েছিলো যে তার চোখের মণি থেকে পানির বদলে রক্ত বের হয়েছিলো ।
কার সামনে? একজন মেয়ের সামনে ।
রামিসাকেও যখন ধর্ষণ করেছিলো তার যোনী থেকে রক্তক্ষরণ হচ্ছিলো ।
একজন মেয়ে হয়ে ধর্ষকের স্ত্রী স্বপ্নার এই ব্যথা বোঝার কথা । বাঁধা দেওয়ার কথা । স্বপ্না তা করে নি।
উল্টো এই নিষ্ঠুর নরপিশাচকে গ্রিল কেটে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করেছে ।
ইভেন কুমিল্লায় তনু হত্যার তদন্তের পর সিআইডি এখন সন্দেহ করছে , তনু হত্যায়ও একজন নারী জড়িত ছিলো ।
তিনজন পুরুষের সিমেন বাদেও তনুর জামায় আরেকজনের রক্ত পাওয়া গেছে সম্প্রতি ।
এসব ঘটনার পর একটা লাইন জেনারাইলাইজ করা হয় , ' মেয়েরাই মেয়েদের বড় শত্রু...
এটুকু কতটুকু সত্য অথবা কতটুকু মিথ্যা তা জেনারাইলজ করার ভার যার যার জীবন কেন্দ্রিক থাকুক ।
আমি আপাতত এটুকু বলতে চাই - শুধু মহিলা / নারী/ মেয়ে বলে আপনার সন্তানকে যার তার সাথে মিশতে দিবেন না ।
এখন আর শুধু পুরুষ নয় - নারীও এখন নিরাপত্তাহীনতার সিম্বল আপনার মেয়ের জন্য ।
আপনার বাচ্চাকে হরহামেশাই পাশের ফ্ল্যাটে চলে যেতে দিবেন না । ইভেন সমবয়সী ছেলে/ মেয়ে বাচ্চা থাকলেও ।
৬-১৪ বছর বয়সী মেয়েদের যারা যৌন নিপীড়ন হয় এদের বেশিরভাগকেই এই ব্যাড টাচ করা হয় খেলাধুলার ছলে , টিভিতে কার্টুন দেখানোর লোভ দেখায়ে অথবা চকলেট/খেলনা দিয়ে বশ করে ।
এসব করে হরহামেশাই গ্রামে ধর্ষণ হচ্ছে । যারা দুয়েক বেলা পত্রিকার পাতা উল্টান তারা জানবেন ।
আপনার সন্তানকে কেউ আদর স্নেহ করবে ?
সমস্যা নেই । সেটা আপনার সামনেই করতে দেন ।
আপনার আড়ালে গিয়ে কারো বাসায় খেলা করা, কার্টুন দেখা এগুলা এখন রিস্ক জোন যদি সে বাসায় পুরুষ থাকে ।
এখনকার বাচ্চারাও অনেক আধুনিক । গতকাল একটা পোস্ট দেখলাম ,
' সমবয়সী এক বাচ্চা ছেলে তার মেয়ে ক্লাসমেটকে ব্যাড টাচ করে । অভিভাবককে বিচার দেওয়া হইলো।
অভিভাবক বাচ্চার সামনেই মেয়ের মা'কে উল্টো কাউন্টার দিতেছে , "বাচ্চারা অত বুঝে নাকি । এ বয়সে এসব হয় । আপনি এতো সিরিয়াস কেনো হচ্ছেন?"
ভাবতে পারেন? এই হইলো পুরুষ সন্তানদের অভিভাবকদের অবস্থা।
তাই বলি , আপনার সন্তানকে সময় দেন । রিলসের দুনিয়া থেকে বের হয়ে তা'র সাথে খেলেন ।
সন্তানকে সতর্ক করেন - আপনি না থাকলে কারো কাছেই যাওয়ার দরকার নেই ।
না দোকানী মামার কাছে , না আসক্রিম মামার কাছে , না পাশের বাচ্চা ছেলে বন্ধুর কাছে ।
আপনার মনে হইতে পারে , এসব আচরণ অস্বাভাবিক ঠেকবে পরিচিত মানুষদের কাছে ।
আমি বলি ভদ্রতা তুলে রাখুন ফ্রিজে, তাজা থাকুক ।
জাস্ট এটুকু মাথায় রাখুন , আজকাল যা ঘটছে তাও কি আদৌ স্বাভাবিক কিছু ?
নাহয় এ কোন কলিযুগে আমরা বসবাস করি যেখানে মেয়েদের সহযোগিতায় মেয়ে ধর্ষণ করা হচ্ছে , হত্যা করা হচ্ছে!
শেষে এটুকুই বলি , Create your own safe-zone circle and live a safe life with your family.
' আলোকশূন্য নক্ষত্র'